সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশের নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির সিটিতে শুরু, ইউপিতে শেষ হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন জগন্নাথপুরে অগ্নিকান্ডে ৫টি ঘর ভস্মিভূত জগন্নাথপুরে সড়কের ব্লক নির্মাণে নিম্মমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না বাঁধের কাজ সময় বাড়াতে চিঠি প্রস্তুত করছে পাউবো ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করলে যেন তা ইতিবাচকভাবে নেওয়া হয়- কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এমপি কামরুল এবার স্থানীয় সরকারে ভোটযুদ্ধ ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকলেন রাষ্ট্রপতি ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে এমপি কামরুজ্জামান কামরুল হাওরের বাঁধে ‘ঘুষের খেলা’ দিরাইসহ ১৩ উপজেলায় চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, উদ্বোধন ১০ মার্চ কামরুজ্জামান কামরুল নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় প্রতিচ্ছবি বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসক, চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা বিজ্ঞাপন: বেতগঞ্জ বাজারে ওএমএস ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি একাধিক ক্লোজারের গোড়ায় ভাঙন, অরক্ষিত হাওর সুনামগঞ্জকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে ৭৪ শতাংশ কাজ সম্পন্নের দাবি পাউবো’র মহান শহীদ দিবস পালিত সত্যশব্দের মিছিল, কবিতাই হলো স্লোগান অবিনাশী চেতনার মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ
শাল্লায় টাকার বিনিময়ে পিআইসি, অক্ষত বাঁধে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ

হাওরের বাঁধে ‘ঘুষের খেলা’

  • আপলোড সময় : ২৪-০২-২০২৬ ১২:২৮:১৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০২-২০২৬ ১২:৩২:৫১ পূর্বাহ্ন
হাওরের বাঁধে ‘ঘুষের খেলা’
জয়ন্ত সেন ::
শাল্লা উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে টাকার বিনিময়ে অক্ষত বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়ায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। পিআইসি পেতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের এমন অভিযোগ নতুন কিছু না হলেও, এবছর কাজের শেষ সময়ে এসে টাকার বিনিময়ে পিআইসি কেলেঙ্কারির বিষয়টি রটেছে জোরেশোরেই। উপজেলা কাবিটা স্কীম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিবসহ একাধিক সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে একটি রাজনৈতিক দলের অসাধু নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে, জড়িত রয়েছে সাংবাদিকদের একটি অংশও। সবকিছু মিলিয়ে এসব অবৈধ লেনদেনে গড়ে উঠেছে একাধিক সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটগুলো প্রশাসনের যোগসাজশে দুই থেকে চার লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে বিক্রি করে প্রকল্প। এমন স্বীকারোক্তি খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মচারীর। পিআইসিতে লেনদেনের প্রসঙ্গে তিনি বললেন- সব পিআইসিই বিক্রি হয়! বিশেষ করে গত ২বছর ধরে বেশি বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানাযায়, উপজেলার বরাম হাওরের ৪১নং পিআইসি ১৯০ মিটারে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৮ লাখ টাকারও বেশি। কিন্তু পিআইসির সদস্য সচিব অমর চন্দ্র দাশ একই হাওরের ১২৪ ও ৪১ নং প্রকল্পে আবেদন করেন। দুটি প্রকল্পই আবার অনুমোদন হয়। নীতিমালা পরিপন্থী বুঝতে পেরে অমর চন্দ্র দাশ ৪১নং থেকে অব্যাহতি নিয়ে ১২৪নং পিআইসির সদস্য সচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। পরে ৪১নং পিআইসি কমিটি উপজেলা কমিটির অনুমোদন না নিয়ে আরেকজন কৃষককে সদস্য সচিব বানিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলায় বেঁকে বসেন উপজেলা কমিটির সভাপতি ইউএনও ও সদস্য সচিব। তাদের পছন্দের সদস্য সচিব ছিলেন নয়াগাঁও গ্রামের অভিনয় দাশ। ফলে ৪১নং পিআইসির সদস্য সচিব নিয়ে বাড়তে থাকে জটিলতা। এমন পরিস্থিতিতে টাকা উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেলে বাঁধের কাজও থমকে যায়। অপরদিকে, ড্রাম ট্রাকের শ্রমিকরাও টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন ওই প্রকল্পের সভাপতি নান্টু সরকারের ছোট ভাই পরিতোষ তালুকদারের কাছে। কারণ, ৪১নং পিআইসির সভাপতি নান্টু সরকার নামে থাকলেও, প্রকল্প পেতে তদবির ও অর্থের বিনিময়ে পিআইসির ঘুষ লেনদেনের নেপথ্যের কারিগরও পরিতোষ তালুকদার।
সম্প্রতি, এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় পরিতোষ তালুকদারের। তিনি নিজেকে দোয়ারাবাজার উপজেলায় একজন পল্লী চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। পাশাপাশি সুনামগঞ্জে একটি ট্রাভেল এজেন্সি প্রতিষ্ঠানেও চাকুরি করেন বলে জানান। তবে তার গ্রামের বাড়ি হবিবপুর ইউপির নয়াগাঁও গ্রামে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর পর্যন্ত ৪১নং পিআইসির সমাধান না হওয়ায় এ প্রতিবেদকের কাছে তিনি বলেন, এনসিপির রাকিব মিয়ার কাছে ২ লাখ টাকা দিয়েছেন পিআইসি পেতে। রাকিব মিয়ার সাথে উপজেলা এনসিপির আরও ৩জন জড়িত আছে বলেও জানান তিনি। এখন যদি পিআইসি সদস্য সচিব পরিবর্তন করে অভিনয় দাশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা তিনি মেনে নিবেন না বলে জানান পরিতোষ তালুকদার। অন্যদিকে নয়াগাঁও গ্রামের অভিনয় দাশও ৪১নং পিআইসির সদস্য সচিব হতে উপজেলা এনসিপির আরও দুই নেতাকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। তবে ১লাখ টাকা এনসিপির এক নেতার মাধ্যমে পাউবো’র শাখা কর্মকর্তা ওবায়দুল হকের কাছে গেছে বলে জানান তিনি। এসও ওবায়দুল হক অভিনয় দাশকে এনসিপির ওই নেতার কাছে টাকা দিতে বলেছেন। তিনি বলেন- দুই লাখ ছাড়া আরও ৪৫ হাজার টাকা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মচারীরা নিয়েছেন তার কাছ থেকে। তবে কারও নাম উল্লেখ করতে চাননি তিনি। অভিনয় দাশ আরও বলেন, আমাকে সেক্রেটারি থেকে বাদ দিতে গিয়ে ৪১নং পিআইসির ঘুষ দিতে হয়েছে ৪ লাখ টাকার বেশি। প্রতিপক্ষ অভিনয় দাশের কথায় রীতিমতো সিলমোহর দিলেন স্বয়ং ৪১নং পিআইসির সভাপতি নান্টু সরকার। ১৮ ফেব্রুয়ারি মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের দুই লাখসহ ৪লাখ টাকার বেশিই দিতে হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে তার ছোট ভাই পরিতোষ তালুকদার সব জানে বলে জানান তিনি। নান্টু সরকার ও পরিতোষ তালুকদার আপন ভাই। শুধু আইডি কার্ডে ভিন্ন পদবি থাকার কারণেই তাদের নামের পদবিও ভিন্ন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ৪১নং প্রকল্পে ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি কাটার কাজ নিয়েছে আগুয়াই গ্রামের বাদল চন্দ্র দাশ। তিনি বলেন, এই বাঁধে কোনও ঝুঁকি ছিল না। আগের বাঁধও মজবুত। কিন্তু অক্ষত বাঁধে কেন এত টাকা দেয়া হল এমন প্রশ্ন তারও। তিনি আরও বলেন, এসও যদি বলে বাঁধ পিছলে পড়ে যাওয়ার কথা। আমি বলব মাটি খুঁড়ে দেখুক বাঁধ পূর্বে কেমন ছিল। আমরা মাটি কেটেছি, আমরা দেখেছি বাঁধ আগে কেমন ছিল। এবাঁধে গর্ত ভরাট না করলেও হাওরের কোন ক্ষতি হত না বলে জানান তিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, এই বাঁধে প্রকল্প গ্রহণ করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। গর্ত ভরাট করারও প্রয়োজন ছিল না। অথচ এখানে বরাদ্দ দেয়া হলো ৩৮ লাখ। পুরানো বাঁধের উপর ১ থেকে দেড় ফুট মাটি দিলেই কাজ হয়ে যেত। যেভাবে ৩৯নং বাঁধের ক্ষেত্রে হয়েছে। তা হলে এ ৪টি প্রকল্পে দেড়কোটির পরিবর্তে প্রাক্কলন ব্যয় হতো মাত্র ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু তা না করে বাঁধের পূর্বদিকে প্রশস্ত করা হল। স্থানীয় এক কৃষকের কাছে জানতে চাইলে ওই কৃষকও বলেন, এ অংশটিতে মাটি না কাটলেও বাঁধের কোন ক্ষতি হত না। কিন্তু পিআইসি আনতে মারামারি লেগে যায়। লাখ টাকা ঘুষ দেয়। এতেই বুঝা যায় কি পরিমাণ লাভ পিআইসিতে। এসব লুটপাট ছাড়া আর কিছুই না বলে জানান তিনি। একই হাওরে ৩৬নং পিআইসির সভাপতি সজল সরকার বলেন- ৪১, ৪০, ৩৯ ও ৩৮ এর মধ্যে ১২৪ নং পিআইসি কীভাবে আসল? তিনি বলেন, তালিকায় এই প্রকল্পের উল্লেখ ছিল না। ফলে কেউ আবেদনও করেনি। এ পিআইসি না দিলেও চলতো। শুধু ১২৪ নয়, একটি পিআইসিরও প্রয়োজন পড়ত না, যদি নদীর উত্তর অংশটা বন্ধ করে দেয়া হত। এটি নিয়ে আমি ৬ বছর আগেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। এটি করা গেলে দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় সরকারের কয়েক কোটি টাকা সাশ্রয় হত। ১২৪ নং পিআইসি ‘ফাও’ বলেও জানান সজল সরকার। ১২৪ নং পিআইসি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার কথা বলেছিলেন পরিতোষ তালুকদারও। তারও সন্দেহ এখানে একটা রহস্য আছে। অনেকই বলছেন, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা এসও’র প্রকল্প। লোকভাড়া করে ওই পিআইসির কমিটি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন উপজেলা মনিটরিং কমিটির এক সদস্যও। এদিকে বরাম হাওরের ৩৯, ১২৪, ৪০, ও ৪১ নং পিআইসি মিলিয়ে ১ হাজার মিটার। অথচ পিআইসির সাইনবোর্ডে দেখানো হয়েছে প্রায় ১৬০০ মিটার। ৪টি প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় দেড়কোটি টাকা। অথচ ৪০নং পিআইসিতে বর্ষায় নৌকা চলাচল করার কারণে একটি ভাঙা ছাড়া আর কোনও সমস্যা নেই এসব বাঁধে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ১০ লাখ টাকায় এ ভাঙা বন্ধ করা যেত। অথচ এখানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬০ মিটারে ৩৯ লাখ। আর ৪১, ৩৯ ও ১২৪ নং পিআইসির তিনটি প্রকল্পে ১ কোটি টাকা অযথাই দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। উদগল হাওরের ৪৩ ও ৪৪ এ দু’টি প্রকল্পের বরাদ্দ ৩১লাখ। এ দু’টি প্রকল্পই অপ্রয়োজনীয়। এখানে পুরানো বাঁধের উপরে ৬ইঞ্চি মাটি পড়েছে। এমন অনেক অক্ষত বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা।
অন্যদিকে কালিকোটা হাওরের ৯৮ নং পিআইসিও দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এক ভিডিওতে দেখা যায় ওই প্রকল্পের সদস্য শান্ত মিয়া স্বীকার করেছেন তিনি দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলামকে।
এবিষয়ে উপজেলা কাবিটা স্কীম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির গণমাধ্যম প্রতিনিধি পাবেল আহমেদ বলেন, প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম ৯৮, ৪৫ নং পিআইসিসহ অন্তত ৩০টির মত পিআইসি বিক্রি করেছেন। তার বাসার সামনে পিআইসি পেতে মানুষ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। এমন আরও বহু পিআইসি টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কমিটির আরেক সদস্য সাবেক কলেজ শিক্ষক তরুণ কান্তি দাস বলেন, রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তিনি অফিসের সামনে আবার বুক ফুলিয়ে নাকি বলে আমার কি? জেলে যাবে ইউএনও, এসও! তবে প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম সম্পর্কে আমি ইউএনওকে পূর্বেই সতর্ক করেছিলাম। পিআইসি পেতে যে লাখ লাখ টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে এমন অনেক অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন অক্ষত বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ কেন দেয়া হল ইউএন’র কাজে জানতে চেয়েছেন তিনি।
এবিষয়ে প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে কল রিসিভ করেননি তিনি। অক্ষত বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দের বিনিময়ে পিআইসি কমিটির নিকট থেকে ঘুষ নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা (এসও) ওবায়দুল হক বলেন, আমি কোন দুর্নীতির সাথে যুক্ত নই। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেইনি। কেউ অর্থ লেনদেন করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বরাম হাওরের ৪টি প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, বাঁধ ধসে যাওয়ার আশঙ্কায় হাওরের দিকে গর্ত ভরাট করার কারণে এমন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের উপজেলা কমিটির নেতারা বলছেন, বরাম হাওরে ৪১, ১২৪ ও ৩৯ নং বাঁধে কোনও ফাটল বা ধসে যাবে এমন চিহ্নই ছিল না। এসব প্রকল্প অক্ষত ও টেকসই অবস্থায় রয়েছে। কোটি কোটি টাকা লুটপাটের উদ্দেশ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ড এমন অস্বাভাবিক বরাদ্দ দিয়েছে। পিআইসি বেচাকেনার কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িত এনসিপি’র জেলা কমিটির সদস্য রাকিবুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি।

এ বিষয়ে এনসিপি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাজাউর রাজা সুমন বলেন, আমরা রাকিবুল ইসলামকে নোটিশ করেছি। সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় তিনি আর কমিটিতে নেই। শাল্লার এনসিপি কমিটির অনেককেই তিনি চিনেন না বলে জানান।

এদিকে, প্রশাসনের নাকের ডগায় পিআইসি নিয়ে এতো দুর্নীতি হল কীভাবে এমন প্রশ্নে ইউএনও পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আমি দুর্নীতির সাথে জড়িত না। পিআইসি পেতে বাইরে থেকে কেউ টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না বাঁধের কাজ সময় বাড়াতে চিঠি প্রস্তুত করছে পাউবো

নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না বাঁধের কাজ সময় বাড়াতে চিঠি প্রস্তুত করছে পাউবো